Tuesday, January 16, 2018

ভয়ানক রাত
---------------
সেদিন ছিল ভালোবাসার দিন
রাত বারোটা,
দাঁড়িয়ে ছিল ছেলেটা
রেল ষ্টেশনের কাছে
দিদি ফিরবে কাজের থেকে,
সেই দিদি
যে মায়ের স্নেহ ভালবাসা দিয়ে
বড় করেছে তাঁকে

দিদিকে নিয়ে ফিরবে বাড়িতে
তারপর
রাতের খাবার খাবে একসাথে

দিদিকে নিয়ে ফিরছে যখন
মদ্যপ যুবকের দল
ভোজালি হাতে
পথ আগলে দাঁড়িয়ে তখন

কিছু বোঝার আগেই
পাশবিক যুবকের হাতে
দিদি হল বিবস্ত্র
খালি হাতে ছেলেটা
হাতে নেই কোনও অস্ত্র
তবুও সহ্য করতে না পেরে
ঝাঁপিয়ে পড়লো ছেলেগুলোর ওপরে

হঠাৎ আর্তনাদ
দিদিইইইইইইইইইইইইইইইই......”
নিস্তব্ধ নিঝুম রাত
দূরে গুটি কয়েক কুকুর ভয়ে আছে শিটিয়ে
আর
রক্তাক্ত ছেলেটা মাটির ওপরে লুটিয়ে
ধারালো ভোজালি দিয়ে
এফোঁড় ওফোঁড় করে দিয়েছে

কেউ নেই আশেপাশে
বিবস্ত্র দিদি এক পাশে
আর ভাই পরে রক্তাক্ত দেহে
ঘৃণ্য সমাজ মুখ লুকিয়ে রাখে







  ফেলে আসা স্মৃতি

চারিদিকে শুধু নিস্তব্ধতা
ফেলে আসা স্মৃতিগুলো
ফিরে ফিরে চেয়ে আছে
আমার হৃদয়ের বাতাস
আজ নতুন করে বইতে শুরু করেছে
তোমার হৃদয়ের ঠাণ্ডা বাতাস
আজ বইছে কিনা জানি না
কিছু না জানা প্রশ্নে
কিছু ভাষাহীন উত্তরে
কিছু বাঁধাহীন বাঁধনে
অনুভব করছি তোমায়
চারিধারে শুধুই তুমি তুমি আর তুমি

আমার হৃদয়ের বাতাস হয়ে তুমি থাকবে
তোমার আমার স্বপ্ন গুলো ফিরে ফিরে আসবে

Friday, October 26, 2012

অন্তহীন অপেক্ষা


সপ্তমির সকালে তোমাকে ছুঁয়ে দেখার ইচ্ছে ছিল,
হল না ছোঁয়া।
ইচ্ছে ছিল তোমার ঠোঁটে আমার ঠোঁট রেখে
কাটিয়ে দেব কিছু সময়।।

অপেক্ষায় ছিলাম কখন তোমাকে একলা পাব
নিজের মত করে দেখব তোমায়,  
কিছুতেই তোমাকে একলা পেলাম না।।
সকাল থেকে দুপুর হল, দুপুর থেকে রাত
আশায় ছিলাম পাব তোমার সাথ,
পেলাম না ... হলাম আশাহত

হল না আমার আশা পুরন...

অষ্টমির সকালে চোখ বন্ধ করে অঞ্জলি দিচ্ছিলাম,
তোমার ডান বাহু আমার বাম বাহুতে ঠেকেছিল,
হঠাৎ তাকিয়ে দেখি, পাশে তুমি।
আনন্দ হল খুব,
একটা উষ্ণতা অনুভব করলাম।
ইচ্ছে ছিল,  
মন্ডপের আড়ালে তোমাকে নিয়ে যাব,
তোমার নরম ঠোঁটে আমার ঠোঁট রাখব,
কিছু সময় কাটিয়ে দেব।
সকাল গড়িয়ে দুপুর, আর দুপুর গড়িয়ে রাত
কেন তুমি থাকলে না আমার সাথে সাথ, বুঝিনি।।

হল না আমার আশা পুরন...
গভীরভাবে আশাহত হলাম।।

আশায় ছিলাম, নবমীর নিশুতি রাতে
তোমায় নিজের করে পাব
আশায় মন্ডপে কেটে গেল রাত
নবমী নিশি চলে গেল
মায়ের বিদায় ঘন্টা বাজল

আসছে বছর আবার মা আসবে
তুমিও আসবে
দেখা হয়ত হবে, কিন্তু ছুঁয়ে দেখা
হবে না বোধ হয়
আশায় থাকব, যদি ছুঁয়ে দেখা যায় তোমায়।।

অবশেষে,


অবশেষে,
দেখা পেলাম তোমার
কত জনম পরে
নীল সাগরের তীরে
নীলাম্বরি শাড়ি পড়ে
এল চুলে
দাঁড়িয়ে ছিলে
উদাস চোখে
আমাকে দেখে
সম্বিত ফিরে পেলে

অবশেষে,
তুমি কথা বললে
হেসে হেসে
বসলে এসে
আমার পাশে
সাগর পারে
পরন্ত বিকেলে

ঢেউয়ের পড়ে
ঢেউ এল যেই
তাকিয়ে দেখি
নেই তুমি নেই

আজও হাতছানি দিয়ে ডাকে

শিউলি ফুল ফুটেছিল,
বাবুদের বাগানে
ছোট্ট মেয়েটা,
লাল জামা পরে,
মাথায় দুই বিনুনি ঝুলিয়ে,
এসেছিল ফুল তুলতে।।

বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল,
বাবুর ছোটছেলে,
হাফ প্যান্ট আর নতুন জামা পড়ে
এক দৃষ্টে তাকিয়ে ছিল,
ছোট্ট মেয়েটির দিকে

হঠাৎ মেয়েটার চোখ গেলো,
বাবুদের বারান্দার দিকে
তাকিয়ে দেখে,
ছোট্ট ছেলেটি, এক দৃষ্টে তাকে দেখে
ফুলের সাজি হাতে,
মেয়েটি ছেলেটিকে হাতছানি দিয়ে ডাকে

দৌড়ে ছেলেটি যায়,
শিউলি গাছের নীচে
এক সাথে দুজনে ফুল তুলে নিয়ে আসে
অঞ্জলি দেবে মায়ের পায়ে

এই ভাবে প্রতি বছর,
দুজনে ফুল তুলে নিয়ে আসে,
এক সাথে অঞ্জলি দেয় মায়ের পায়ে
তারপর পাশাপাশি বসে, 
মায়ের পূজা দেখে

এইভাবে কেটে গেল কতগুলি বছর,
এখন ছেলেটা থাকে বিদেশে
আর সেই ছোট্ট মেয়েটা
চলে গেছে,
অন্য কারও ঘরে,
সংসারি মেয়ের বেশে

আজও শরতের রঙ্গিন সকালে
সেই ছোট্ট মেয়েটা
হাতছানি দিয়ে ডাকে
ছেলেটা পাগলের মত ছুটে যায়,
শিউলি তলায়
মনে মনে ভাবে,
যদি সেই মেয়েটার দেখা পায়

পায় না খুঁজে সেই মেয়েটিকে,
আজও যে হাতছানি দিয়ে ডাকে




Saturday, July 21, 2012

“ফুটপাথ তুমি কার?”


নিজেকে আমি জিজ্ঞাসা করলাম একদিন
ফুটপাথ, তুমি কার?
কত মানুষ রোজ হাঁটে,
সকাল বিকাল,
তাঁরা ভাবে তার
কত মানুষ হকারি করে,
তাঁরা ভাবে তার!
কত দালাল আসে তাদের পাওনা নিতে
তাঁরা ভাবে তার
সারা দিনের ক্লান্তির পরে
রাতে কত মানুষ ঘুমায়
তাঁরা ভাবে তার
কত মানুষ ঘর বাধে
এই ফুটপাথে
তাঁরা ভাবে তার
কত অবাঞ্ছিত শিশুর জন্ম হয়
এই ফুটপাথে
তাঁরা ভাবে তার
রোজ রাতে কিছু নরখাদক আসে
হাত ধরে টেনে নিয়ে যায়
কোনও যুবতি মেয়েকে
সে হয়ত বা কারও মা
কারও বা বোন
আবার হতেও পারে কারও প্রেয়সী
সেই নরখাদক ভাবে
ফুটপাথ তার নিজের
সবাই ভাবে ফুটপাথ তার নিজের সম্পত্তি
এইসব দেখে আড়ালে কেউ হাসে
মনের প্রশ্ন মনেই থেকে গেলো
উত্তর পেলাম না
ফুটপাথ তুমি কার?

হারিয়ে যাচ্ছে


আকাশে ঘন কালো মেঘ;
যে কোনও সময় বৃষ্টি আসবে,
ভাসিয়ে দেবে সব।
দুরের আকাশে
কিছু সাদা বক
সারিবদ্ধ ভাবে উড়ে যাচ্ছে
মনে হচ্ছে
সাদা জুঁই মালা
আকাশের বুকে
কেউ মেলে দিয়েছে।
অপু, আকাশের দিকে
অপলক দৃশটিতে তাকিয়ে আছে।
এমন দিনেই তো নদীর পারে,
নন্দিনীর দুই হাত ধরে
মনে মনে বলেছিল
ভালবাসি তোমায় আমি
নন্দিনী কিছু বলেনি মুখে,
শুধু দু চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে
গাল বেয়ে পরেছিল।।
দুজনেই চুপ,
ঠিক তখন ঝম ঝম বৃষ্টি
শুরু হল।
আজ দুজনে ভিজবে,
তাই ছাতা আনেনি।  
যেই বিদ্যুৎ চমকাল,
নন্দিনী অপুকে জাপটে ধরল।
দুজনের চোখ বন্ধ
ঠোঁট একদম কাছাকাছি...
আর মনে নেই,
কেমন হারিয়ে যাচ্ছে।
দুরের আকাশে
কিছু সাদা বক
সারিবদ্ধ ভাবে উড়ে যাচ্ছে।